জানেন কী যেসব কারণে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে
ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমিয়ে দিচ্ছে, ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, ভুলে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো ‘ব্রেন ফগ’। এই অবস্থায় চিন্তা ধীর হয়ে যায়, মনযোগ কমে, সাম্প্রতিক ঘটনাও মনে রাখতে সমস্যা হয়। আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসও স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী। কোন অভ্যাস স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে?
সকালের খাবার না খাওয়া
অনেকেই ব্যস্ততার কারণে সকালের খাবার বাদ দেন। কিন্তু এতে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ভিটামিন পায় না। ফলে গ্লুকোজের অভাবে মস্তিষ্ক যথেষ্ট শক্তি পায় না, যা স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
আজকাল ফোন নাম্বার, ঠিকানা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখার প্রয়োজন পড়ে না, কারণ সবকিছু স্মার্টফোন ও গুগল করে দিচ্ছে। জিপিএস-এর সাহায্যে সহজেই রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায়, ফলে মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অংশটি কম সক্রিয় থাকে। দীর্ঘদিন এভাবে চললে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
অতিরিক্ত মোবাইল স্ক্রলিং
রাতে শোবার আগে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল স্ক্রল করার ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা ৩-৪ ঘণ্টা ভিডিও দেখলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন (কর্টিসল) বেড়ে যায় এবং ঘুমের হরমোন (মেলাটোনিন) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ঘুমের সমস্যা ও ‘ব্রেন ফগ’ তৈরি হয়।
অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ
প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি স্মৃতিশক্তির জন্য ক্ষতিকর। ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, সফট ড্রিংকস, প্যাকেটজাত ফলের রস, কেক, বিস্কুট, কেচাপ—এগুলোতে অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলে স্মৃতিনাশ, মাইগ্রেন এবং অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়। রোদে বের না হওয়া
ঘরের মধ্যে অতিরিক্ত সময় কাটালে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দেয়। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে, পাশাপাশি অবসাদও বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন কিছুক্ষণ রোদে থাকার অভ্যাস করা প্রয়োজন।
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ডিজিটাল ডিভাইসের সীমিত ব্যবহার, পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা জরুরি।
আরটিভি/জেএম
Post a Comment